Showing posts with label আমার লেখা অণু-পরমাণু-ছোট গল্প. Show all posts
Showing posts with label আমার লেখা অণু-পরমাণু-ছোট গল্প. Show all posts

Monday, August 29, 2022

অণুগল্পঃ- পটলার "অবলা" প্রেম

 

~ রাজকুমার ঘোষ - ২৯.০৮.২০২২

বেশ সুন্দর করে পটলা জীবনটা একটু গুছিয়ে নিয়েছিল। একটা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে বেয়ারার চাকরি পেয়ে রোজের সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যে ৬টা ডিউটি করে বাড়ি ফেরা। তারপর... না আড্ডা নয়। পটলা আড্ডা দেওয়া পছন্দ করে না। পটলার ফেভারিট টিভি সিরিয়াল৷ বাংলা সিরিয়াল পটলার খুব প্রিয়। বিশেষ করে নতুন একটি সিরিয়াল চালু হয়েছিল, "মিস অবলা"। সেই সিরিয়ালের মুখ্য ভূমিকায় থাকা নায়িকা প্রীতিকা মিত্র পটলার ভীষণ ফেভারিট। প্রীতিকাকে নিয়ে ভাবতেই ওর খুব ভালো লাগে। মনে মনে মিস অবলাকে নিজের বৌ ভেবে ফেলেছে অবিবাহিত পটলা। ওর বাবা-মা বিয়ে দিতে চেয়েছিল, কিন্তু পটলা বলেছে ও অবলার জন্যই অপেক্ষা করবে৷ এমন পাগলামিতে ওর বাবা-মা ভীষণ বিরক্ত। এই ভাবনা নিয়ে পটলা থাকে সর্বক্ষণ। নিত্যদিন ভিড়বাসেই পটলাকে অফিসে যাতায়াত করতে হয়। অনেক যাত্রী ভিড় বাসে যেতে যেতে অনেক রকম বিরক্তি প্রকাশ করে, কিন্তু অবলার স্বপ্নে বিভোর পটলার ডোন্ট ওরি মনোভাব। ওর মনে হয় ওকেও অবলা থুড়ি প্রীতিকা ভালোবাসে৷ এই ভাবাতেই ওর যেন স্বর্গসুখ। ভিড়বাসে পটলার পা'টা কেউ বুট চাপা দিয়ে থাকলেও পটলা সহ্য করে নেয় প্রীতিকার বিভোরতায়। উলটে সে সেই যাত্রীকে বলে, "না না, আমি কিছু মনে করিনি। এমন ভিড় বাসে হতেই পারে।" সেই যাত্রীর রিপ্লাই আসে, "আপনি মনে করলেও কিছু যায় আসে না। কে একেবারে হরিদাস পাল!"৷ পটলা আর কথা বাড়ায় না। এইভাবেই চলতে থাকে। কিন্তু গত চার-পাঁচ দিন পটলার মন ভীষণ খারাপ৷ বড় খবর এখন মিডিয়া জুড়ে, 'অভিনেত্রী প্রীতিকা মিত্র'র মৃত্যু।" তারপর থেকে পটলার দিনগুলো কেমন যেন অসহায়। শুধুই অবলাকে দেখতে পায়। ওর শুধু মনে হয় প্রীতিকা ওর সাথেই আছে। খবর কাগজের প্রথম পাতায় প্রীতিকার ছবি দিয়ে মর্মান্তিক খবর প্রকাশিত হয়েছে। অফিসের ব্যাগে সেই পাতাটা পটলা সঙ্গে নিয়ে রেখেছে। আর মনে মনে নিজের বৌকে হারিয়েছে ভেবে উদাস হয়ে থাকে। কারোর সাথে কথা বলে না। বাড়িতেও সে তার বাবা-মা'র সাথে কথা বলে না। আগের মত টিভিতে সিরিয়ালও দেখে না। কিন্তু জীবন চলতে থাকে। পটলাও তার রোজদিনের অফিসে যায়। সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যে ৬টা পর্যন্ত ডিউটি। ভিড় বাসেই যায়-আসে। এরমধ্যেই কোনো একটা দিন পটলা ভিড় বাসে উঠেছে। অতি কষ্টে একটা সিটও পেয়ে বসেছে। --------  

ওর কেমন যেন মনে হয় ওকে কেউ অনুসরণ করছে। কদিন ধরে এই ব্যাপারটা আরও বেশী করে মনে হচ্ছে। ভিড় বাসে উঠে সিটে বসে আছে, এতো কোলাহল, এতো শব্দ। তারই মধ্যে কে যেন ওকে ডাকছে। ও শুধু তার কথাই যেন শুনতে পাচ্ছে। "পটলা ... ও পটলা... তুমি কি আমার কথা শুনতে পাচ্ছো না... তুমি আমাকে কত ভালোবাসো... আমিও তো তোমাকে কত ভালোবাসি... একবার তাকাও আমার দিকে... আই লাভ ইউ পটলা"। পটলার মনে হলো, এ কন্ঠ তো অবলার থুড়ি প্রীতিকার। সে সপ্তাহ খানেক হলো মারা গেছে। তার মিষ্টি কন্ঠ সে কি করে শুনতে পাচ্ছে। বেশ ভয় পেয়ে গেল পটলা। তেষ্টায় ব্যাগের মধ্যে থেকে জলের বোতল বের করার সময় সে দেখতে পেল, যে কাগজটির প্রথম পাতায় প্রীতিকার ছবি দিয়ে মৃত্যু সংবাদ প্রকাশিত হয়েছিল। সেই প্রীতিকার ছবিটা যেন হঠাৎ জীবন্ত হয়ে উঠেছে। সেখান থেকেই প্রীতিকা পটলাকে অনবরত জিজ্ঞেস করে যাচ্ছে আর বলছে, "আই লাভ ইউ পটলা"... দেখা মাত্রই পটলা আঁতকে উঠল। এমন ভিড় বাসেও পটলা চিৎকার করে উঠল, "ভূত... ভূত... প্রীতিকার ভূত... আমাকে বাঁচাও। না আমি তোমাকে ভালোবাসি না"...

  ------- আরে কি হলো মশাই, কোথায় ভুত। এই দিনের বেলায় ভিড় বাসে ভূত কোথায় দেখতে পেলেন? অদ্ভুত মানুষ তো। এই ভিড়ে সিটের মধ্যে ঝিমুচ্ছে আবার স্বপ্নও দেখছে। আবার কাকে নিয়ে! প্রীতিকাকে নিয়ে... যত্তসব পাবলিক  

পটলা বাসের মধ্যে সিট পেয়েই ঘুমিয়ে গিয়েছিল। আর স্বপ্নে প্রীতিকাকে দেখে যাতা অবস্থা। ভিড় বাসের মধ্যে অজস্র লোকের ওর দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকা ওকে বেশ অস্বস্তিতে ফেলেছে বলাই বাহুল্য। যথারীতি ওর গন্তব্য চলে এলো। কারোর দিকে না তাকিয়ে ও মাথা নিচু করে বাস থেকে নেমে গেল। অফিসের দিকে হাঁটতে হাঁটতে ব্যাগ থেকে সেই কাগজের প্রথম পাতাটা ছিঁড়ে রাস্তার মধ্যে থাকা ডাস্টবিনে ফেলে দিল  


Thursday, August 25, 2022

নেলোর প্রেমপত্র


রম্যরচনা -

রাজকুমার ঘোষ

গুচ্ছের বিভ্রান্তি নিয়ে নেলোর মত একটা মানুষ এই জগতে থাকতে পারে, তা ওকে দেখে বোঝা যায় না। রোগা-পটকা চেহারার নেলো মনে–প্রাণে ছুকছুক বাই গ্রস্ত এক পাবলিক, যদিও সেটা কেউ বুঝতে পারে না বা নেলো কাউকে বুঝতে দেয় না। তার যে কিসের দুঃখ, কিসের হতাশা আবার তার যে আনন্দ কখন আসে সে নিজেও জানেনা। তার নাম নিলমণী পাত্র, কিন্তু বন্ধুদের সৌজন্যে সেটা নেলোতে এসে ঠেকেছে।

এই নেলো বিভ্রান্ত লগ্নেই জন্মেছে বলে মনে হয়, তার জীবনের প্রথম চুলকানি, দুঃখিত বিভ্রান্তি … সে নাকি প্রেমে পড়েছে। একেই তার হাড়ভাঙ্গা লিকলিকে চেহারা। প্রেমের জোয়ারে তার নাওয়া খাওয়া ঘুমের দফারফা। এরপর তার চেহারা কোথায় রাস্তাঘাটে মিশে যাবে সেই নিয়েই ওর বাবা-মার চিন্তার শেষ নেই। নেলোর ঠাম্মা বলে, "কিরে মুখপোড়া হাড় মিনসে, এইতো চেহারা, বলি কোন মেয়ে স্বপ্নে আসে তোর? ওলাউটো কলেজে প্রেম করতে যাস না পড়তে যাস" ঠাম্মার গালি খাওয়ার ভয়ে নেলো ঠাম্মার ত্রি-সীমানায় ঘেঁষে না। 

সবে নেলো স্কুল গন্ডি পাড় করে কলেজে এন্ট্রি নিয়েছে, সেখানে গিয়েই এক মেয়েকে দেখে নেলোর চুলকানি শুরু, মানে পেত্তম প্রেম জেগে ওঠা। ব্যাস গড় গড় করে একটা লাভ লেটার লিখে জীবনে প্রথমবার প্রোপোজের জন্য বাসস্ট্যান্ডের দিকে গিয়েছিল, মেয়েটি তখন বাসের জন্য অপেক্ষা করছিল। মেয়েটির কাছে যাওয়ার কিছুক্ষণ পরেই নেলো দুরন্ত নাচতে শুরু করে দিল। নেলোর নাচানাচি দেখে আশেপাশে ও দূর থেকে দেখা ওর বন্ধুরাও অবাক৷ সবাই ভাবছে ব্যাপার কি? কিছুক্ষণ পর মেয়েটার একটা সপাটে চড় নেলোর গালে পড়তেই আশেপাশের পরিবেশ খানিকটা থমকে গেল। 

ব্যাপারটা হয়েছে কি! নেলোর পকেট থেকে চিঠি বের করার বদলে বেরিয়ে এল সালিকল মলম ! বিভ্রান্তির সেই শুরু, নেলোর হাতে স্যালিকল

দেখে মেয়েটি ঠাস করে একটা চড় কষিয়ে দিল ।… পরে জানা গেল, নেলোর চুলকানি শুধু মনের নয় অন্য চুলকানিও আছে যার জন্য সালিকল পকেটে রাখার দরকার হয়। টেনশনে নাকি নেলোর দ্বিতীয় চুলকানিটা প্রকট হয়ে ওঠে এবং তা বাড়াবাড়ি পর্যায়ে চলে যায়। সেদিনের কেসটা তাই হয়েছিল, টেনশনে নেলোর চুলকানি শুরু আর পকেটে হাত দিতেই চিঠির বদলে সালিকল আর সেই সাথে নাচানাচি। … আহারে নেলো, জ্বালার চেয়ে যন্ত্রনা বেশি, বিভ্রান্তির শুরু এবং শেষ। প্রথম প্রেমপত্র লিখে সে গিয়েছিল মেয়েটির কাছে৷ নিজের হাতে প্রেমপত্রসহ উপহার দেবে ভেবেছিল। সব জলে গেল। হাতে চলে এল স্যালিকল৷ প্রেমের যবনিকা পতন৷

Tuesday, August 23, 2022

আমার আমি - (২য় ভাগ)

 

- রাজকুমার ঘোষ - ৬.৮.২০২২ 

জীবনে চলার ক্ষেত্রে আমার আমিকে নিয়ে বেশ শঙ্কিত ছিলাম। সেই ছোট্ট থেকে শুরু হয়েছে জার্ণি। আমি নিজেকে কিভাবে সবার কাছে নিবেদন করব। ছোট্ট বেলায় না হয় মা, বাবা ও বাড়ির বড়দের কোলে ঘুরে বেড়াতাম। আমি জানতাম না আমি কেমন। পরে অনেকেই অনেক গল্প করেছেন। কিন্তু তাও... নিজের প্রতি পূর্ণ বিশ্বাস তৈরি হয়নি। আজ যখন আমি 'আমার আমি'কে নিয়ে লিখতে বসেছি, মনের মাঝে কত যে কথা চলে আসছে তা বলাই বাহুল্য। ছোটবেলায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার আগে পর্যন্ত মা আমার আমিত্বকে নিশ্চয়ই ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করেছেন। শুধু মা নয় বাবাও বলেছিলেন, প্রথম দিন, "বাবা যদি বাথরুমে যেতে ইচ্ছে করে। স্কুলের দিদিমনিদের বলিস, তা নাহলে মুশকিল হয়ে যাবে" ... কিন্তু যা হয় আমার আমিত্ব আটকেছিল ব্যাপারটা হজম করতে। কাজেই... আমার পরণে থাকা প্যান্টের দফারফা। বাড়িতে এসে মা'এর প্রচণ্ড চিৎকার আমার আমিত্বকে জাগাতে পারেনি।
পরবর্তীকালে কিভাবে যে রূপম, মলয়, বিপ্লব ও আরও অনেকের সাথে  বন্ধুত্ব হয়ে গেল। এবং বেশ মনে আছে আমার আমিত্ব এতটাই শক্তিশালী যে আমি স্কুলে না গেলে তারা বাড়ি চলে আসত। খোঁজ নিয়ে আসত। আমার আমি বড়ই বন্ধু বৎসল ছিল সেই ছোট্ট থেকে।
প্রাইমারী স্কুলের গণ্ডি পেরিয়ে গেলেও আমি যোগাযোগ রেখেছিলাম তাদের সাথে। কিন্তু সময়ের স্রোতে সবাই যে যার আমিত্বে ডুবে গেছে। মনে আর কেউ রাখেনি। আমি আমার আমিকে নিয়ে পরের মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিকের বন্ধুদের সাথে মিলেমিশে নতুন আমিত্বে প্রবেশ করলাম। প্রিয় বন্ধু রাজা সেই ছোট্ট বেলায় ক্লাস ফাইভ থেকে আজও আমার সাথে সমানভাবে পাশে আছে। দুজনের আমিত্বে তৈরি হয়েছে শক্তিশালী বন্ডিং। আজ আমার পড়ালেখা, এবং আমাদের গড়ে তোলা পত্রিকার কাজকর্মে সবচেয়ে বেশীভাবে সমর্থন ও সাহস যোগান দেয় বন্ধু রাজা। অনেক অনেক ছাত্রের গুণমুগ্ধ স্যার রাজা (সৌরভ মুখার্জি) আজকের এই যান্ত্রিক, ভদ্র মুখোশের আড়ালে থাকা মানুষদের সমাজেও একজন সত্যিকারের সবুজ হৃদয় মানুষ। যার স্পর্শে থাকলে আমার আমিত্ব সক্রিয় হয়ে ওঠে। বন্ধু তুই ভালো থাকিস। বাকি জীবনেও তোর আমি আর আমার আমিতে মিলেমিশে থাকতে পারি।
তাই পরের পর্বে যাবার আগে আমি আমার বন্ধুকে নিয়ে লেখা একটি পুরোনো কবিতা দিলাম...

বন্ধু

ছোট বেলার সাথী তুই, ভুলিনি তোর কথা...

মান অভিমান দূরেই থাকুক, সেটাই মূল কথা
বন্ধু তোর কাছে গেলেই, ভুলে যাই সব ব্যথা
টানা পোড়েন, বাক বিতন্ডা রেখেছি সব দূরে
ছোট থেকেই বন্ধু তুই আছিস হৃদয় জুড়ে

ছোট বেলার সাথী তুই, ভুলিনি তোর কথা...

ভাবনার ব্যাপার নেইকো কিছু বন্ধুদেরই মাঝে
পেশা নেশা যাদের সাথে তাদের কাছেই সাজে
হঠাৎ কোনো দমকা হাওয়ায় যাবেনা তো রুখে
যেথাই থাকিস বন্ধু তুই, থাকিস পরম সুখে।

ছোট বেলার সাথী তুই, ভুলিনি তোর কথা...

মনের মাঝে নয়কো দ্বিধা, থাকবে না কোনো দ্বন্দ্ব
ছোট থেকেই জানি তোকে, ভাবিনি কখনো মন্দ।
এবার যদি আসে কোনো অবাঞ্ছিত অশান্তি
মাথা পেতে নেবো দায়, যতই আসুক ক্লান্তি

ছোট বেলার সাথী রে তুই, ভুলিনি তোর কথা...

Friday, August 12, 2022

ভগবানের দূত

 

রাজকুমার ঘোষ
~ ১২.০৮.২০২২
জীবনের অনেক অভিজ্ঞতা মাঝে মাঝেই স্মৃতির মধ্যে ভেসে ওঠে। সেই ভেসে যাওয়ার মধ্যে যদি গল্প থাকে অবশ্যই তা লিখে রাখা উচিত। এইরকমই একটি গল্প সকলের সাথে ভাগ করে নিতে ইচ্ছে হল। অনেক বছর আগে একটি ভিড় ট্রেনের গল্প মনে পড়ে গেল।
সদ্য কলেজ থেকে পাশ করে বেরিয়েছি। আর চাকরীর জন্য বিভিন্ন জায়গায় আবেদন করতে শুরু করেছি। টেকনিক্যাল ফিল্ডের ছাত্র, কাজেই রেলের পরীক্ষা গুলোর জন্য আবেদন করতাম বেশি। রেলের টেকনিক্যাল ক্যাটেগরির জন্য ভারতবর্ষের বিভিন্ন রেলবোর্ডের আন্ডারে পরীক্ষা গুলো নেওয়া হতো। সে এখনো হচ্ছে। আমাদের সময় পাটনা রেল বোর্ডের আন্ডারে আমি দুটো ক্যাটেগরীর জন্য আবেদন করেছিলাম। দুটো ক্ষেত্র থেকেই অ্যাডমিট কার্ড চলে আসে। কাজেই পরীক্ষা দিতে হলে পাটনা ও মুঙ্গের যেতে হবে। এই পরীক্ষা দিতে যাওয়ার সময় আমাকে দূরপাল্লার ট্রেন গুলোর ওপর নির্ভর করতে হত। রিজার্ভেশনের তোয়াক্কা না করেই আমি জেনারেল কম্পার্টমেন্টেই জার্ণি করতাম। বেশ মনে আছে। পাটনায় পরীক্ষাটা দেওয়া হয়ে গেছে। পরের পরীক্ষা মুঙ্গেরে হবে। পাটনা স্টেশন থেকে টিকিট কেটে মুঙ্গেরে যাওয়ার উদ্দেশ্যে একটি এক্সপ্রেস ট্রেনের ( নাম মনে নেই) জেনারেল কামরায় উঠে পড়েছি। ওঃ কি যে বিশ্রীরকম অবস্থা ! এমন ভিড় আমার ধারণার বাইরে। কোনরকম ঠেলা, গোত্তা সামলে কামরায় উঠেছি আর একটা না বসেও বসার মতো জায়গা পেয়েছি সেটাও খুব ভাগ্যের ব্যাপার। তারপর বেশ কিছু মহিলা তাদের কিছু ছাগল আর মুরগী নিয়ে কামরায় উঠেছে। অস্বাস্থ্যকর অবস্থা। ছাগল এবং মুরগীগুলোর সাথে একটা দুর্গন্ধ যেন পেটের ভেতরে থাকা খাবার গুলো নাড়িভুড়ি সমেত মুখ দিয়ে বেরিয়ে আসার মত অবস্থা। রীতিমত কোনঠাসা অবস্থা আমার। একটা সীটে আধবসা অবস্থায় বসে কামরায় উপস্থিত মানুষগুলোর থোবড়া গুলো আমি ফ্যালফ্যাল করে দেখছি আর ভাবছি কোথায় পৌছব আমরা! তার ওপর আপার বার্থে থাকা কিছু উটকো পাবলিক তাদের ঠ্যাঙ দুটো মুখের সামনে ঝুলিয়ে বসে আছে। এরই মধ্যে কামরায় উঠেছে বেশ কিছু হিজড়া। তারা এসেই হাতে তালি দিয়ে সকলের থেকে টাকা-পয়সা চাইছে। তাদের মধ্যে একজন এসে হাত বাড়িয়ে আমাকে বলল, "এ বাবুয়া"। আমি কথা না বাড়িয়ে বেশ ভয় পেয়ে পকেটে যা ছিল দিয়ে দিলাম। আমার পকেটে বোধ হয় কুড়ি কি পঞ্চাশ টাকার নোট ছিল। সেটাই চলে গেছে। আমি দেখিওনি। হিজড়াটি আমার মাথায় হাত দিয়ে বলল, "ভগবান তেরা ভালা করে"। এই ব্যাপারটা খেয়াল করেছিল কিছু চ্যাংড়ামী করা বিহারী ছেলে। যাদের বলা যেতে পারে একটা গ্যাং। সেটা টের পেলাম ট্রেনে ওদের বাঁদরামী দেখে। কেন জানিনা আমাকে দেখে ওদের উৎসাহ আরো বেড়ে গেল। আমার জামার পকেট ধরে ওরা টানাটানি করতে লাগল। ওদের মধ্যে একজন এসে আমাকে শাসিয়ে বলল,
-"ক্যায়া রে মনুয়া, বহুত দিলদার হে তু, কুছ তো হাম লোগোকে লিয়ে ভি রাখনা চাহিয়ে"।
আমি ভয় পেয়ে গেলাম। কোনোরকমে মুখ দিয়ে বেরোলো,
- "ছোড় দো মুঝে। মেরে সাথ আচ্ছা নেহি কর রহে হো"।
- "ক্যায়া কর লেগা তু, মনুয়া। আগর আপনা ভালা চাতে হো, তো সবকুছ দে দো
এই বলে ওরা চারজন আমার কাছে এসে আমাকে উল্টোপাল্টা কথা জিজ্ঞাসা করতে লাগল, আমার পকেট, লাগেজ দেখতে যাবে কি ! কোথা থেকে সেই হিজড়া এসে ওদের একজনকে সপাটে পেটে লাথি মারলো। ওদের আরো জনা-দশেক সাথী ছিল, তাদেরকেও সে ডেকে নিলো। তারপর রীতিমত ট্রেনে খন্ডযুদ্ধ। হিজড়াদের দাপটে ওই বাঁদরগুলো কি করবে ভেবে পাচ্ছিলো না। সেই হিজড়া যে আমার মাথায় হাত দিয়ে আশীর্বাদ করেছিল সে আমাকে আশ্বাস দিল, “এ বাবুয়া, ডরো মত, হাম সব পাশ হ্যায়, তু ভালা লেড়কা হ্যায়। হাম সব ভালাকে সাথ”। ওই সময় সত্যি ! আমার দু’চোখ বেয়ে জল চলে এলো । নিজের মনে মনে বললাম, ‘ভগবান, তুমি সত্যি, কতো রূপে আছো’ । ঘটনার পর আমি এতটাই অবাক হয়েছিলাম, যে না চাইলেও আমার ঘুম পাচ্ছিল। হিজড়া জানতে চাইল, কতদূর যাব আমি? আমি মুঙ্গেরে যাব জানাতে সে আশ্বস্ত করল তারাও যাবে বেগুসরাই। সুতরাং চিন্তা করতে মানা করল। আমাকে ভালো একটা বসার সিট পাইয়ে দিল এবং বলল, "শো যা বেটা"। আমি সত্যিই ঘুমিয়ে গেলাম সিটে বসে। ঠিক মুঙ্গের স্টেশনে আসার মিনিট পাঁচ আগে আমাকে ডেকে দিল, “বেটা উঠো, মুঙ্গের আগেয়ে” – আমি উঠে পড়লাম। তারপর স্টেশনে ট্রেন আসতেই ওরা আমার লাগেজ বের করে প্লাটফর্মে নামাল। আমাকে আশীর্বাদ করল। ট্রেন প্ল্যাটফর্ম থেকে চলে যাওয়ার আগে বলল, “টাটা বেটা”। আমি হতভম্বের মত দাঁড়িয়ে রইলাম। আর ভাবতে লাগলাম কিছুক্ষণ আগে ভিড় ট্রেনের ফেলে আসে মুহূর্তগুলো। যা আজও আমার স্মৃতিপটে একটি উজ্জ্বলপাতা হয়ে রয়ে আছে। মানবতার প্রতীক হিসাবে আমি সেই হিজড়াকে ভগবানের দূত বলতেও দু’বার ভাবিনা ।

Sunday, August 7, 2022

দিওয়ানা

 

দিওয়ানা
রাজকুমার ঘোষ 

অজয় স্বপ্নাকে প্রতিদিন দেখতে পেতো। ওর বাড়ির কাছেই স্বপ্নার বাড়ি, অথচ পরিচয় ছিল না। অজয়ের খুব ইচ্ছা স্বপ্নার সাথে কথা বলতে, কিন্তু সাহস করে কখনোই এগোতে পারে নি। কাজেই স্বপ্নাকে দেখা ছাড়া তার অন্য কোন উপায় ছিল না। রাস্তার ধারেই যখন স্বপ্নার বাড়ি, অজয় ওর বাড়ির পাশ দিয়ে যাবার সময় খুব চেষ্টা করত, যদি একটু তার ভালোলাগার মানুষটিকে দেখা যায়। সেই কবে থেকে স্বপ্নাকে দেখে যাচ্ছে, কিন্তু কথা হয়না, এমন কি স্বপ্না ওর দিকে তাকিয়েও দেখে না। মাধ্যমিক পরীক্ষার পর এক কোচিং সেন্টারে অজয় স্বপ্নাকে দেখে একদম হকচকিয়ে যায় । সেদিনই স্বপ্নার সাথে প্রথম আলাপ এবং ওর স্বপ্নকন্যার নাম যে স্বপ্না সেটাও জানতে পারে। এরপর থেকে অজয়ের দিনগুলো বেশ ভালো ভাবে কাটতে থাকে, যাকে দেখার জন্য ও এত উদগ্রীব হয়ে থাকত, সে আজ ওর বেশ কাছের বন্ধু। অনেক গল্প হয়, কথা হয়। অজয়ের কাছে যেন সব কিছু স্বপ্ন বলে মনে হয়। অজয় তার সাধারণ জীবনে স্বপ্নার বন্ধুত্ব পেয়ে নিজেকে ভীষন ভাগ্যবান মনে করে। সে স্বপ্নাকে খুব ভালোবেসে ফেলে, কিন্তু সে কথা স্বপ্নাকে কখনোই জানাতে পারে না। ১৪ই জুন স্বপ্নার জন্মদিনে অজয় একটা উপহার নিয়ে শুভেচ্ছা জানাতে গিয়েছিল। অজয় মনে মনে ঠিক করেছিল, "আজই আমার মনের মানুষকে মনের কথা বলেই ছাড়বো। ওর ভালোলাগার উপহার ওকে দিয়ে আমার মনে গোপন কথা উজার করে দেবো তোমাকে। স্বপ্না তুমি আমার স্বপ্নের স্বপ্না।"  উপহার হিসাবে অজয় নিয়ে গিয়েছিল স্বপ্নার ফেভারিট সোনু নিগমের একটি জনপ্রিয় মিউজিক অ্যালবাম ‘দিওয়ানা’। পুরো নতুন ডিভিডি প্যাক। বেশ দারুন হবে ব্যাপারটা, এই ভেবে সে স্বপ্নার কাছে গিয়েছিল, কিন্তু ও বলতে পারেনি, তবে ও স্বপ্নার বাড়িতে কম্পিউটারের মিউজিক প্লেয়ারে দিওয়ানার একটা গান স্বপ্নাকে শুনিয়েছিল... “দিল সে দিল তক, বাত পৌছি, মিলতে মিলতে সনম”। গানটা চলছিল যখন, অজয় মনের কথা বলার জন্য স্বপ্নার দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়েছিল, বোধ হয় স্বপ্নাকে ও বোঝাতে পেরেছিল।
তারপর থেকে অজয় স্বপ্নার সাথে কথা বলতেও একটু অস্বস্তি বোধ করত। স্বপ্নার থেকে একটু দূরে দূরে থাকার চেষ্টা করত। একদিন স্বপ্না অজয়কে বাড়িতে ডাকে। ... অজয় গিয়েছিল... স্বপ্না অজয়কে ওর ছাদের ঘরে ডেকে নিয়ে যায় তারপর অজয়ের হাতটি ওর ঠোঁটের স্পর্শে বুঝিয়ে দেয় ভালোবাসার উষ্মস্রোত বুঝি এবার ওর হৃদয় নদীর মাঝ বরাবর বয়ে যাবে। ওকে জড়িয়ে ধরে স্বপ্না বলে, ‘তুমি কি এইভাবে আমাকে জড়িয়ে ধরতে পারো না’...
অনেক বছর হয়ে গেলো, হঠাৎ করে আজকের তারিখ ভাবতেই অজয় আরও উৎফুল্ল হয়ে পড়ল। হ্যাঁ, ১৪ই জুন, এই দিনেই তো স্বপ্নার জন্মদিন ছিল...অজয় সেই ‘১৪ই জুনে’র কথা মনে করছে। স্বপ্নার সেই বিগলিত দৃষ্টি আজও ওর স্মৃতিতে উদ্ভাসিত, একটা অক্সিজেনের যোগান দেয়। কিন্তু আজ স্বপ্না যে ওর পাশে নেই, সে যে অন্য কারোর ঘরণী, তাতেও নো প্রবলেম... অজয় ওর প্রিয় ছাদের ঘরে রাতের আকাশের দিকে তাকিয়ে সেই বিশেষ দিনের সুখস্মৃতির কথা ভেবে নিজেকে সুখী মনে করছে, কিভাবে যেন সেই সুখস্মৃতি আজও তার কাছে সুখস্বপ্ন হিসাবেই আছে। এরপর অজয় বাড়ির বাইরে গিয়ে একটা সুন্দর কেক ও বেশ কটা রঙীন মোমবাতি গোপনে কিনে নিয়ে চলে এল। রাত্রি এগারোটায় বাড়ির সকলে ঘুমিয়ে যেতেই ও ছাদের ঘরে এসে দরজা বন্ধ করে মোমবাতিগুলো জ্বালিয়ে নিয়ে, ফেসবুকে ওর ফ্রেন্ড লিস্টে থাকা স্বপ্নার প্রোফাইল থেকে একটি ছবি ডাউনলোড করে ল্যাপটপের স্ক্রিনে ফিট করে, এরপর নিজে কেক কেটে স্বপ্নার উদ্দেশ্যে, “শুভ জন্মদিন প্রিয়া... তুমি কাছে না থাকলেও আমি আছি ... আমি আছি আমার মত করে তোমার স্মৃতি সাথে নিয়ে। তুমি হারিয়ে যাওনি স্বপ্না, এখনো হৃদয়ের ছোট্ট প্রকোষ্ঠে তুমি উজ্জ্বল হয়ে আছো। খুব ভালো থাকো প্রিয় বন্ধু তুমি...” ল্যাপটপে চালানো স্বপ্নার সেই প্রিয় গানটি মুহুর্তটাকে আরও সুন্দর করে তুললো, “দিল সে দিল তক বাত পৌছি, মিলতে মিলতে সনম...”



Friday, August 5, 2022

আমার আমি - ১ম ভাগ


 - রাজকুমার ঘোষ - ৩.৮.২০২২ 


"আমার...র আমি  

সবচেয়ে দামী"  


সত্যি কি দামী? কি জানি বুঝতে পারি না। 

- কিরে রাজ? তোর নতুন লেখা দেখতে পেলাম না। 

- এইতো লিখেছি। দেবো ফেসবুকে বা ব্লগ বা প্রতিলিপি অ্যাপসে। 


তাহলে আমি লিখলাম। আমার লেখা কতটা গ্রহণযোগ্য পাঠকের কাছে সেটা আমার আমিত্ব দিয়ে বোঝানো সম্ভব না। সাথে পাঠক আমাকে দরজায় টোকা দেবে আমার আমিত্বকে জাগাবে। তবেই আমার আমিকে বিকশিত করতে পারব। 


- কিরে বাবা, তুই সারাক্ষণ কম্পিউটারের সামনে বসে লিখেই যাবি? 

- হ্যাঁ মা। এই হয়ে গেছে। আমি এক্ষুণি খেয়ে নিচ্ছি। 


আমার আমিত্ব চুপচাপ বসে ছিল কম্পিউটারের সামনে বসে। নতুন লেখায় মগ্ন ছিল। খাবার কথাই ভুলে গেছে। কিন্তু মমতাময়ী মা মনে করিয়ে দিল আমার আমি মায়ের আদরের সন্তান। তার মমতার আঁচলে নিজেকে গড়ে তুলেছি। সে ছিল বলেই আমি নিজেকে চিনতে পারছি বেশি করে। গর্ভধারিনী মা'র সন্তান একজন আমি। তাকে ছাড়া আমার আমিত্ব সম্পূর্ণ হয় না। 


শৈশব থেকে কিশোর, যৌবন হয়ে বার্ধক্যের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে আমি আমার আমিত্ব নিয়ে বড় বেশী চিন্তায়। আমার আমিত্ব কি অন্ধকারে না আলোকে ? এই নিয়েই চলতে থাকুক আমার ভাবনা আর ভাবনার বিকশিত হোক আমার লেখা। যদি পাঠকেরা সঙ্গ দেয়। তাহলে আমার আমিত্বকে তাদের পড়া ও বোঝার মাধ্যমে বুঝতে পারব। 


পাঠক ও লেখক-কবি বন্ধুরা আপনাদের মতামতের ওপর নির্ভর করছে "আমার আমি" কে কতখানি স্রোতের অনুকুলে বইতে পারব। না প্রতিকুল না। কারণ আমি যেমন তোমাদের ভালোবাসি, আমার বিশ্বাস তোমরাও আমাকে ভালোবাসো...নিউটনের তৃতীয় সূত্রের অনুকরণে... 


পরের পর্ব না হয় ভাবা যাবে... যাবার আগে আমার একটি পুরনো 'আমি' কে সকলের সাথে ভাগ করে নিলাম - 


"আমি" 


তখন,

আমি মুক্ত, আমি চঞ্চল…

খুঁজেছি মায়ের আঁচল।

ছিল না কোনো চাপ বা অনুতাপ …

থেকেছি বাবার ভয়ে চুপচাপ।

আমি দুরন্ত, আমি উন্মাদ…

তবুও দাদু-ঠাম্মার সোনার চাঁদ।


মাঝে,

আমি প্রতিবাদী, আমি অশান্ত…

বন্ধুরা বলেছে আমি নাকি ক্লান্ত।

ছিল বিবেক বোধ, খানিকটা মেধাবী…

শিক্ষকের চোখে হয়েছি বেহিসাবি।

আমি বাচাল, আমি সাধারণ …

তবুও তার হৃদয়ের অবলম্বন।


এখন,

আমি ধীর, আমি নিশ্চুপ…

ছাত্র-ছাত্রী'র মনে বিরূপ।

কখনো কবি, কখনো বা লেখক…

পাঠকের মনেতে হইনি সাবালক।

আমি মেজাজী, আমি দিই কষ্ট …

তবুও ছেলের চোখে সর্বশ্রেষ্ঠ।

Monday, August 1, 2022

পথের শেষ নেই...



রাজকুমার ঘোষ

       গত কয়েকদিন ধরে অফিসে ভীষণ কাজের চাপ, আজও তার ব্যতিক্রম নয় । অফিসের ঘড়ির দিকে তাকাতেই চমকে উঠলাম । রাত ১১টা বেজে ১৫ মিনিট । তড়িঘড়ি অফিসের ফিফ্থ ফ্লোর থেকে নেমে চলে এলাম রাস্তার মোড়ে । বেশ নির্জন হয়ে গেছে রাস্তাটা । এই সময় বাস পাওয়া তো দুরের কথা, ট্যাক্সি পাবো কিনা সন্দেহ । রাস্তার উত্তর দিক ধরে সোজা হাঁটতে লাগলাম । খানিকটা যাবার পর দেখলাম অনেক দূর থেকে একটা গাড়ির আলোর ছটা ক্রমশঃ এগিয়ে আসছে আমার দিকে । মনে বেশ বল পেলাম । যাই হোক দুশ্চিন্তা কাটলো তাহলে, হ্যাঁ একটা ট্যাক্সি আসছে, আমি সাথে সাথেই হাত নাড়িয়ে ট্যাক্সিটিকে দাঁড় করালাম । প্রায় অফিসের সামনে থেকেই ট্যাক্সিটা পেয়ে যেতে নিজেকে একটু ভাগ্যবান মনে করলাম । সারাদিন কাজ করে বেশ ক্লান্ত, তাই ট্যাক্সিতে উঠে ড্রাইভারকে গন্তব্যস্থল জানিয়ে সিটে শরীরটা এলিয়ে দিলাম । অনেক রাত হয়ে গেছে, বাড়িতে সবাই চিন্তা করবে এই ভাবতে ভাবতে কখন চোখের কোনে ঘুম চলে এলো । জানিনা কতক্ষণ ঘুমিয়ে ছিলাম, হঠাৎ কি একটা আওয়াজে আমার ঘুমটা ভেঙে গেলো । একটু তাকিয়ে দেখলাম সবদিক, তারপর ড্রাইভারের সিটের পেছনে লেখা ট্যাক্সির নম্বরটা চোখে পড়তেই আমি চমকে উঠলাম ভারী বিদঘুটে নাম্বার, চারটে শূণ্য । তার ঠিকপরেই লেখা আছে পথের শেষ নেইআমি খুব অস্বস্তিতে পড়ে গেলাম, তার সাথে ট্যাক্সিটিও প্রচন্ড গতিতে এগিয়ে চলেছে । কোথায় যে থামবে জানি না । বেশ ভয় পেয়ে গেলাম আর ড্রাইভারকে জিজ্ঞাসা করলাম, “আরে কোথায় যাচ্ছেন? ও মশাই, আর কত দূর ? বলা মাত্রই ড্রাইভার মুখ ঘোরালো, দেখেই চমকে গেলাম একটা কঙ্কাল … তারপর অদৃশ্য,  দেখলাম ড্রাইভারের সিটে কেউ নেই । আতঙ্কে বাঁচাও বাঁচাওবলে চোখ বুজে চেল্লাতে লাগলাম ।

      চোখ খুলতেই দেখি আমার সামনে বাবা, মা, বোন, ভাই দাঁড়িয়ে আছে । মা আমাকে জিজ্ঞসা করলেন, ‘কি হয়েছে সন্তু, ঘুমের ঘোরে চেল্লাচ্ছিস কেন ? কি হয়েছে তোর ?”… আমি সবার দিকে অবাক হয়ে তাকিয়ে রইলাম কিছুক্ষণ, তারপর পাশ ফিরে আবার ঘুমিয়ে পড়লাম ।


Monday, May 25, 2020

ছোট গল্পঃ নিয়তি



রাজকুমার ঘোষ # ২৬.০৫.২০২০ 

করোনা প্রভাবে মানুষ লকডাউনে ঘরেই বন্দী। রাজও ঘরে বন্দী গত দুই মাস। না আছে কাজ, শুধু খাও, আর ঘুমাও আর মাঝে মাঝে সোশ্যাল সাইটে গান গেয়ে, কবিতা লিখে পোস্টানো… এই ভাবে কেটে যায় দিন-রাত। খবরের কাগজ, নেট থেকে পাওয়া খবরের ভিত্তিতে পূর্বাভাস ছিলোই আমফাণ আসছেই। লোকমুখে তো প্রবল ভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। যেমন এর আগেও কত আয়লা এসেছে। বিভিন্ন জায়গায় তার প্রভাব রেখে গেছে। আসুক তবে, দেখা যাবে… বিকেল থেকে আকাশ ঘন কালো। সবাই বলছে আমফাণ আসছে প্রবল ফণা তুলে। আস্তে আস্তে ঝড়ের একটা প্রভাব লক্ষ্য করার মতো। ছাদে গিয়ে সে দেখলো, আকাশ কালো রঙে ছেয়ে গেছে। গাছগুলো নাচের একটা ছন্দ পেয়ে গেছে। প্রবল ভাবে দুলতে লাগলো। তাদের ঝড়া পাতা আর ডাল গুলো উড়ে আসতে লাগলো। আশে পাশে বাড়ির টিনের ছাউনিগুলো লাফাতে লাগলো। শুরু হলো প্রবল বৃষ্টি। ঝোড়ো হাওয়ার সাথে বাড়ির জানলাগুলোর কিছু কাঁচ ঝনঝনিয়ে উঠলো। সবল ঝাপটায় বৃষ্টির জল ঢুকে পড়লো জানলা দিয়ে, দরজার তলার নিচের ফাঁক দিয়ে। ভিজিয়ে দিলো মেঝে। রান্না ঘরের জানলার কাঁচ ভেঙে জল ঢুকতে লাগলো। থালা-বাসন গুলো ঝনঝন করে আওয়াজ সহকারে পড়তে লাগলো। বাড়ির মেয়েরা সেই বাসনগুলো তুলে রাখার ব্যর্থ চেষ্টা করতে লাগলো। এদিকে দরজা বা জানলা দিয়ে জল ক্রমাগত ঢুকতেই থাকে। বেশ কিছু কাপড় বা প্লাস্টিকের চট দিয়ে সেই জল আটকানোর এক অসম প্রচেষ্টা। কিছু সফল বলা যেতে পারে। বাড়িতে বিদ্যুৎ কখনই চলে গেছে। সন্ধ্যে ঘনিয়ে রাতের কালো নিকষ অন্ধকারে অনেকদিন পর আবর্জনায় পড়ে থাকা একটা মাত্র হারিকেন জ্বালানো হলো। কিছু মোমবাতি ছিল তাও জ্বালানো হলো। দেখতে দেখতে রাত হয়ে গভীর রাতে চলে এলো, কিন্তু ঝড়ের রেশ কমেনি। প্রবল হাওয়ার বিভৎস আওয়াজে এক বর্ণও চোখের পাতা দুটো এক করতে পারেনি রাজ। ঘুম তো আসেইনি। সকালের দিকে একটু ঘুম এসেছিলো। উঠতে প্রায় ৮টা হলো তার। ঘুম থেকে উঠেই ছেলে বললো, 

- বাবা, বেশ কয়েকটা গাছ, ইলেকট্রিক পোল ভেঙেছে। এছাড়াও কিছুটা দূরে একটা বাড়ির পাঁচিল ভেঙে পড়েছে। 

- বলিস কিরে… চল দেখি একবার বাইরে গিয়ে। 
- আরে ঐ বাড়িটার ছাদে দেখো বাবা, কোনো বাড়ির টিনের ছাউনি উড়ে এসে পড়েছে। 

খবর পেলো, আশে পাশের বাড়িতে বেশ কিছু গাছ ভেঙে পড়েছে। কিছু কিছু জায়গায় ইলেকট্রিকের তার খুলে পড়েছে। সারাটা দিন, বিদ্যুৎ নেই, জলের সরবরাহ নেই। কি ভাগ্যিস রাজদের পাতকুয়া ছিলো। সেখান থেকেই জল সংগ্রহ করে নেওয়া হলো। খাবার জল আগে থেকেই সংগ্রহ করা ছিলো। 
সারাটা দিন কিভাবে যে কেটে গেলো, সন্ধ্যে গড়ালো। বাড়ির মধ্যে অন্ধকার ঘনিয়ে এলো। মোমবাতি আর নেই। একমাত্র হারিকেনই সম্বল। সেটাই ব্যবহার করা হলো। একটা জায়গায় সে জ্বলে আছে আর সকলের দশা দেখে মিটমিট করে হাসছে। রাজ তার অভ্যাস মতো মা’র তৈরী করা চা পান করতে বাড়ির নিচের ঘরে চলে এলো। অন্ধকারে ফ্লাক্সে রাখা চা ছোট একটা গ্লাসে কোনোরকমে নিলো। একটা বিস্কুটও খুঁজে নিলো। বিস্কুট সহযোগে চা দু’-তিন চুমুক দেওয়ার পর সে তার মা’এর খোঁজ নিলো, 

- মা, কোথায় তুমি? অন্ধকারে দেখতে পাচ্ছি না কেন? 
রাজের বাবা বারান্দায় ছিলো, তিনি এলেন লাইটার জ্বেলে। বললেন, 
- ঘরে গরম তো? দেখ তোর কম্পিউটার রুমের ঘরের মেঝেতে ঘুমোচ্ছে। 
- বলো কি? মেঝের মধ্যে ধুলো আছে। পিঁপড়ে, টিকটিকি কত কি ঘুরতে পারে। এইভাবে ঘুমোয় কখনো! 

সে অন্ধকারে হাতরে হাতরে হাতে চা’র এর গ্লাসটা নিয়ে ঘরের দরজার কাছে এসে খুলতে গেলো দরজা। চা’র গ্লাসে একটা চুমুক দিতে গেলো। হঠাৎ অনুভব করলো, গ্লাসের সাথে লেগে থাকা কড়ে আঙুলে কি একটা হালকা স্পর্শ। মনে মনে সে বললো, 
- কেমন একটা মনে হচ্ছে আমার? 
রাজ বাবাকে বললো, বাবা গ্লাসের মধ্যে কি একটা পড়লো? কেমন একটা মনে হচ্ছে আমার। 
- কি পড়বে? 
- না গো, আমি চুমুক দিতে যাচ্ছি, কিন্তু আঙুলে একটা স্পর্শ পেলাম। 
- দাঁড়া, লাইটারটা জ্বালি 
লাইটার টা জ্বালানো হলো, টিম টিম করতে থাকা লাইটারে জ্বলতে থাকা আগুনে কিছুই বোঝা গেলো না। মোবাইলের সুইচ অফ, কাজেই অগত্যা গ্লাসটা নিয়ে রাজ ছুটে গেলো হারিকেনের কাছে। হারিকেন উঁচু করে ধরতেই রাজের চক্ষু চড়কগাছ। গ্লাসের মধ্যে থাকা চা’র মধ্যে পড়ে আছে একটা ছোট্ট টিকটিকি। গরম চা’র মধ্যে টিকটিকি পড়েই সেদ্ধ হয়ে ভাসছে। রীতিমত ও বিষ্ময়ে হতবাক। 
রাজ চুপ করে সিঁড়ির একটা ধাপে বসে পড়লো। কিছুক্ষণ পর নিজের অবস্থায় ফিরে ও ব্যাপারটা অনুধাবণ করলো। ওর মাকে যখন ডাকতে গেলো দরজা খুলে, তখনই ও চুমুক দিতে যাচ্ছিলো চা’র গ্লাসে। দরজার ওপরে থাকা ঝোলানো একটা ব্যাগের গায়ে আটকে ছিলো টিকটিকিটা, সেই মুহূর্তেই চা’র গ্লাসে পড়ে। 
রাজ আর ভাবতে পারে না, সে সেই গ্লাসে থাকা চা সমেত মরা টিকটিকিটাকে ছুঁড়ে ফেলে দিলো। তারপর ছুটে গেলো সে তার আরাধ্য কুল দেবতার কাছে… 
- জীবনে মরণতো এইভাবেই হতে পারতো। তুমি তা চাওনি। যতই করোনা আর আমফাণ আসুক… আমি আছি এখনো, কিছু বাকি কাজ আছে করার জন্য, আমার ছেলে, স্ত্রী এবং আমার পরিবারের পাশে থাকার জন্য। 
রাজের স্ত্রী ছিলো সেখানে, সে সমস্ত ঘটনার সাক্ষী। সে বললো – 
- আমরা ক্ষতি করিনি কারোর। আমাদের নিয়তি এইভাবে হতে পারে না। একদিন ঠিক সূর্যের আলোয় সব কিছু ফিরে আসবে। এই অন্ধকার সাময়িক।

Thursday, May 14, 2020

ছোটদের গল্প - বিট্টুর কেরামতি



রাজকুমার ঘোষ  # 14.05.2020

-কিরে  ঘুমিয়ে পড়, এখনো ঘুমোসনি? কি জ্বালায় ছেলেটাসকালে উঠে স্কুলে যেতে হবে তো নাকি উঠতে না পারলে মার খাবি
মাএর বকুনি খেয়ে বিট্টু পাশ ঘুরিয়ে চোখ বুজে ঘুমোবার চেষ্টা করলো কিন্তু ঘুম আসছে না ওর পেট যে গুড় গুড় করছে ভীষণ পেট ব্যাথা করছে পটি যাবার কথা ভাবছে কিন্তু ওর মা যে নাক ডেকে ঘুমোচ্ছে মাকে ডাকলেই জোর বকুনি দেবে
আসলে হয়েছে কি, চারদিন আগে বিট্টু পেটের ব্যাথায় কাবু ছিলো উলটো পালটা খেয়ে যা হয় আর কি আমাশা হয়ে গিয়েছিলো ডাক্তার দেখিয়েছিল স্কুলেও যায়নি সে একটু ভালোও হয়েছিল কিন্তু আজ ওর বাড়িতে মামা-মামি এসেছিল সাথে ওর দুটো মামাতো ভাইও এসছিল রোববারের দিন বেশ জমিয়ে খাওয়া দাওয়া হয়েছে ওর প্রিয় জিনিস ফিস কাটলেট আনা হয়েছিল ওর মা ওকে বার বার বারণ করেছিল,
-        বাবু, বেশি খাসনি ফিস কাটলেট তোর শরীর ভালো না এরপর যদি পেটের ব্যাথা হয়, দেখিস কি করি আমি  
কিন্তু তারপরেও বিট্টু লোভ সামলাতে পারেনি প্রায় চারটে ফিস কাটলেট সাঁটিয়েছে সাথে অন্যান্য খাবারও যেমন চিকেন তন্দুরি, মোগলাই একটু একটু করে খেয়েছে ব্যস সহ্য হয়নি ওসব খেয়ে ঘুমোনোর সময় যত পেট ব্যাথা ওর মাও জানেনা এখন যদি মাকে ডেকে বলে ওর এই অবস্থা, কেলেঙ্কারি হয়ে যাবে ও ভয়ে চুপচাপ থাকে কিন্তু পেটের ব্যাথা যে বাড়তে থাকে এবং পটি পায় শেষমেশ ও সিদ্ধান্ত নিলো, যে ও একাই টয়লেটে যাবে আর চেপে রাখা যাবে না এইমুহূর্তে ওর মনে হচ্ছে টয়লেটটা বহুদূর পৌঁছতে পারবে তো? দুঃখে কাতর হয়ে বিট্টু পেটে হাত বোলাতে বোলাতে খাট থেকে নামতে গিয়ে মেঝেতে পড়ে গিয়ে কুপোকাত। শব্দ হলেও বিট্টু দেখলো ওর মা তখনো নাক ডাকছে। খানিকটা আস্বস্ত হয়ে পা টিপে টিপে পড়িমড়ি হয়ে টয়লেটের দিকে ছুটে গেলো। রান্নাঘরের পাশেই ছিলো টয়লেট। এই রান্নাঘরের মুখের দেওয়ালে ছিলো বড় একটা ঘড়ি। বিট্টুর  চোখ পড়ে বড় ঘড়ির তলায় দাঁড়িয়ে থাকা বিরাট ছায়া মূর্তির দিকে। তা দেখে বিট্টু পটির কথা ভুলে গেলো, টিভিতে দেখা বিরাট দৈত্যের কথা মনে পড়লো। বেশ ভয় পেয়ে কাতর হয়ে আর সহ্য করতে পারলো না বিট্টু। পটি পা বেয়ে গড়াতে লাগলো আর ঘামে তার পৈতে ভিজে গেলো। সেই বিচ্ছিরি অবস্থায় বিট্টু সোজা চলে গেলো ঘরে থাকা সোফার তলায় লুকোতে এবং দৈত্যকে লক্ষ্য করতে লাগলো এবং ঠকঠক করে কাঁপতে লাগলো। তারপরেই একটা বিকট চিৎকার, ‘বাঁচাও গো কেউ আমায়, বাঁচাও... এ বাবা! কি সব লেপ্টে গেলো আমার লুঙ্গি আর জামায়, আর কি বিচ্ছিরি গন্ধরে বাবা”। এরপরেই ঝনঝনিয়ে পড়লো অনেকগুলো বাসন।
বিট্টূ ভয়ে সোফার ওপরে বসে পড়লো। আর বিকট শব্দতে বিট্টুর বাবা-মা’র ঘুম ভেঙ্গে গেলো। ছুটে চলে এলো এই ঘরে, লাইট জ্বালতেই দেখে ঘরে ভয়াবহ অবস্থা। তাদের চোখ পড়লো প্রথমে বিট্টুর দিকে, বিট্টু বলে ওর মাকে,
-  মা আমায় তুমি ধরো। 
- ইস! একি করেছিস শয়তান ছেলে... আমাকে জ্বালিয়ে খেয়ে নিলো। দাঁড়া, বেয়াদপ তোকে দেখাচ্ছি  মজা।
- মা, দেখো ওদিকে দৈত্য!
বিট্টুকে মারতে যাবে কি! সোফাও পটিতে যাতা অবস্থাগন্ধতে টেকা দায়। বিট্টুর কথায় এরপর দু’জনেরই চোখ পড়ে একটু দূরে থাকা একটা ষণ্ডামার্কা লোকের দিকে। তারা দেখে লোকটা পুরো পটির সাথে লেপ্টে গেছে এবং স্লিপ খেয়ে হড়কে গেছে রান্নাঘরে থাকা থালা বাসনের দিকে আর তার ঠেলায় থালা বাসন গুলো সব পড়ে গেছে। লোকটা ভেউ ভেউ করে কাঁদছে আর বলছে –
-        আমাকে বাঁচাও, কি সব লেপ্টে আছে আমার সাথে। পুরো হড়কে গেছি। আর উঠতে পাচ্ছি না। কোমড়ে প্রচন্ড লেগেছে।
-        তুমি কে? এতো রাতে কি করতে এসেছো  এখানে? দাঁড়াও পুলিশকে ফোন করছি।  - বিট্টুর বাবা বললো।
(২)
আসলে হয়েছিল কি? একটু ফ্ল্যাশব্যাকে যাওয়া যাক –
বিশে নামে এক চোর, সব কিছু খেয়াল রেখেছে আজ সকাল থেকে। বিট্টুদের বাড়িতে আত্মীয় স্বজন এসেছে, তাই সকাল থেকে ওদের ব্যস্ততা থাকবে। সবাই ক্লান্ত হয়ে রাতে নিশ্চিন্তে গভীর ঘুমে থাকবে। সুযোগ আজই, ওদের বাড়িতে ঢুকে সব কিছু সাবাড় করারযথারীতি প্রস্তুতি নিয়ে বিশে হানা দেয় বিট্টুদের বাড়ি। প্রথমে পাঁচিল টপকায়। তারপর ওদের বারান্দায় প্রবেশ করে। তারপর সদর দরজার প্রায় পাশেই জানলার ঝড়ঝড়ে রডগুলো কাটে করাত দিয়ে এবং সন্তর্পনে প্রবেশ করে কমন ঘরে এবং পাশেই রান্না ঘরে ঢুকে পড়ে। তারপর কিছুক্ষণ অপেক্ষা করার পর রান্নাঘরের সামনে একটা বড় দেওয়াল ঘড়ি আছে তার নিচে এসে চুপটি করে দাঁড়িয়ে থাকে। ঠিক সেই সময়েই বিট্টু রান্নাঘরের পাশে টয়লেটের দিকে ছুটে যায়। আর বিট্টুর চোখে দৈত্যর ছায়ামূর্তি হিসাবে নজরে পড়ে যায়। 

 (৩) 
বিট্টুর বাবা পুলিশকে কল করতেই থানার ওসি সদলবলে এসে গেলো। তারপর ষণ্ডামার্কা মূর্তিমানকে দেখেই ওসি বলে উঠলেন,
-        এযে বিশে চোর!
তারপরই ছড়ার স্টাইলে ওসি বললেন,
“বারেবারে পুলিশকে তুই  দিতিস চোখে ধুলো
পটিতে আজ লেপ্টে গেছিস ওরে ব্যাটা হুলো”
অট্টহাস্যে ওসি এবার বাকি সহকর্মীদের আদেশ করলেন,
“বিশে’কে চেপে ধরে পড়াও হাতকড়ি
ব্যাটা এবার চালান হবে। বলো, বলহরি”  
তারপর আনন্দে আহ্লাদ হয়ে বিট্টুর দিকে তাকিয়ে বললেন,
“ভয় কেন বিট্টুবাবু ধরো আমার হাত
তুমি হলে আসলি হিরো, করলে তুমি মাত।“
পুলিশেরা ঐ অবস্থায় বিশেকে পাঁচাকোলা করে সেখান থেকে নিয়ে চলে গেলো। ওসি এবার বিট্টুর বাবা-মা কে বললেন,
-        বিট্টু কে একদম বকবেন না, ও যে আজ কি কেরামতি করেছে আপনাদের কোনো ধারণাই নেই। এই বিশে’কে কেউ ধরতে পারছে না । অনেকগুলো চুরির  কেস ওর নামে আছে। প্রায় তিন চারটে থানার পুলিশ ওকে খুঁজছে। আপনারা ওকে পরিস্কার করিয়ে দিন। আর ওকে বকবেন না
অগত্যা বিট্টুর মা ওসির কথা শুনলেন। ওসি চলে গেলেনতারপর বিট্টুকে পরিস্কার করিয়ে দিলেন। কিছু না হলেও বিট্টুর বাবা-মা বিট্টুর অজান্তেই এই কেরামতি মেনে নিলেন। তা নাহলে বিরাট ক্ষতি হয়ে যেতো সেটা ওনারা বুঝেছেন।

সমাপ্ত