Showing posts with label আমার লেখা নিবন্ধ. Show all posts
Showing posts with label আমার লেখা নিবন্ধ. Show all posts

Friday, October 5, 2018

মুক্ত গদ্য - চেনা জগৎ

রাজকুমার ঘোষ - 

কোন এক ধনা মাস্টারের ইচ্ছায় সেই সময় ছেলেটির বাবা দুবার ভাবেন নি যে, তার ক্লাস ফাইভে পড়া আপাত নিরীহ ছেলেটির হোস্টেলে যাওয়ার প্রয়োজন আছে কি নেই ! ধনা মাস্টার বলেছেন তাই রাজী, কারণ হোস্টেলে গিয়ে ছেলেটি ঠিকভাবে গড়ে উঠবে, একজন মানুষের মতো মানুষ তৈরী হবে । বাবা কিন্তু বুঝল না ছেলেটি তার মা’কে ছেড়ে থাকবে কি ক রে ? মা কাঁদো কাঁদো মুখে তার স্বামীর সাথে ছেলেটিকে হোস্টেলে রেখে এল । ছেলেটি প্রচন্ড কষ্ট আর হতাশা নিয়ে একটা বিরাট অচেনা অজানা পরিবেশে চলে এল, সেখানে গিয়ে দেখল ওরই মতো আরো অনেক ছেলে আছে, আর আছে হিটলার রুপী ধনা মাস্টার, যার মধ্যে ছেলেটি তার স্বপ্নের দৈত্য-দানবদের ছায়া দেখতে পেতো । ছেলেটি বুঝে উঠতে পারে না সে কি করবে ?... তার চেনা জগৎ যে, তার মা… যাকে ছাড়া সে একটু ও ভাবতে পারে না । হোস্টেলের বদ্ধ জীবনে প্রথম দিন কেটে গেল… দেখতে দেখতে আরো এক মাস কেটে গেল । তখন মোবাইল দুরের কথা মা এর সাথে কথা বলার জন্য টেলিফোনও ছিল না । কিছু পোস্ট কার্ড এর ওপর ভরসা করে থাকতে হতো ।
সুখ তো নেই, খুব দুঃখের সাথে এক মাস কেটে যাওয়ার পর কোন একটা দিন ছেলেটি পুকুর পাড়ে আনমনা হয়ে বসে তার একমাত্র চেনা জগৎ, মা’এর কথা ভাবছে, দূরের মেন রোডে দেখল খুবই চেনা হাঁটার ছন্দে দু’জন আসছে । বুঝতে তার আর বাকি রইল না, সে তখনই পুকুর পাড় থেকে উঠে সরু রাস্তা ধরে এক দৌড়ে মেন রাস্তায় পৌছে গেল তার কাঙ্খিত চেনা জগৎ-এর কাছে । পৌছে গিয়ে সে তার মায়ের বুকের মধ্যে ঝাঁপিয়ে পড়ল, আর হাউ হাউ করে কেঁদে উঠল ।
এই ঘটনার ২০ বৎসর কেটে গেছে… আজ সেই ছেলেটি বহু ঘাত-প্রতিঘাতে বেড়ে ওঠা একজন প্রাপ্ত বয়স্ক লোক । আজ মাতৃদিবসে সেই ছেলেটি ঐ ঘটনার কথা ভাবছে আর আজকেও সে হাউ হাউ করে কাঁদছে । কেন জানি না, কিন্তু সে কেঁদে যাচ্ছে, এই ছোট লেখাটা লিখতে লিখতে সে কেঁদেই যাচ্ছে । সে তার মা’কে কারণে অকারণে কত কিছু না বলেছে, মা তার কথায় খুব কেঁদেছে হয়তো । কিন্তু মা রাগ করেনি একটুও । হাসি মুখে সব কিছু ভুলে গিয়েছে । সেই ছেলেটি প্রতিদিন কাজ সেরে রাত করে বাড়ি আসে, কিন্তু খাবারের থালা নিয়ে আগলে বসে থাকে তার সেই ছোট বেলাকার একমাত্র চেনা জগৎ, তার মা । সেই ছেলেটি তার মাকে এখনও সেই চেনা জগৎই মনে করে । তার মাকে কখনই অচেনা জগৎ-এর সাথে মিলিয়ে ফেলে না । তার মাকে সে এখনও কাছ ছাড়া করতে চায় না ।
একটা ছোট লেখার মাধ্যমে মা-ছেলের যে অমোঘ টান, সেটা ব্যক্ত করা বেশ কষ্টকর । তবুও আজ মাতৃদিবসে আমার লেখার তরফ থেকে এটা একটা ছোট নিবেদন । আমার আজকের এই লেখাটা মান অনুসারে কত ভালো হলো বা কতটা লিখলে আরো ভালো হতে পারতো বা কতটা খারাপ হলো, সে ব্যাপারে আমার বিন্দুমাত্র আগ্রহ নেই । প্রচন্ড জ্বর নিয়ে আজ এই লেখাটা লিখেছি । আজ মাতৃদিবসের দিন পাঠক বন্ধুদের ভালোবাসায় আমার এই প্রচেষ্টা । শেষে প্রত্যেককে বিশেষ করে মা’দেরকে জানাই শুভ মাতৃদিবস । আপনারা সুস্থ থাকুন, ভালো থাকুন আর সন্তানদের আগলে রাখুন । 

প্রকাশিত - রামধনু সাহিত্য পত্রিকা, বাঁকুড়া, ২য় বর্ষ, ২য় সংখ্যা, ২০১৩ 

Friday, September 7, 2018

মুক্তগদ্য - আমার শিক্ষক

রাজকুমার ঘোষ -
এর আগেও আমি শিক্ষক দিবস নিয়ে লিখেছি। লিখেছি আমার পরম শ্রদ্ধেয় মাস্টার মশাইদের নিয়ে। তাদের আশীর্বাদ আমার জীবনে কতখানি প্রভাব বিস্তার করেছিলো সেই নিয়েও বেশ কতগুলো কবিতা এবং গল্প লিখেছি।
আমার জীবনে আমার গৃহশিক্ষক প্রশান্ত মাস্টার মশাইয়ের অবদান অনেকখানি। এমন এক সময় গেছে যেসময় আমি অবসাদে ভুগছিলাম। অঙ্কের প্রতি আমার ভীতি ছিল বা হয়েছিলো। আর এক মাস্টার মশাইয়ের জন্য সেটা হয়েছিলো। মূলত তারই জন্য আমি অঙ্কর মত বিষয়কে মুখস্থ করতাম। ক্লাস এইটে ভীষণ খারাপ রেজাল্ট করি। নবম শ্রেণীতে প্রশান্ত মাস্টারমশাই আমার জীবনে ধুমকেতুর মত আসেন। তিনি আসাতে অঙ্কের প্রতি আমার ভালোবাসা বেড়ে গেলো। সেই ভালবাসা এখনও অক্ষত আছে। এখন আমিও আমার ছাত্রদের অঙ্ক করাতে ভালোবাসি। এই তো গেলো আমার পরম শ্রদ্ধেয় প্রশান্ত মাস্টারমশাইয়ের কথা। এবারে আমি আর একজনের কথা বলতে চাই যিনি ছাড়া আমার এ জীবন অসম্পূর্ণ। তবে তার আগে আমি গল্পের আকারে কিছু জানাতে চাই।।
একটি মেয়ে ক্লাস এইট পাশ করতেই তার বাবা-মা আত্মীয়স্বজনরা তার জন্য সম্বন্ধ দেখতে শুরু করে দেন। মেয়েটি খুবই ছোট। খেলাধুলার বয়স। সংসারের নিয়ম নিয়ে কতটুকুই বা জানে। সেই বুদ্ধি তার মধ্যে অতটা গড়ে ওঠেনি। এদিকে কোনো এক আত্মীয় এক সরকারী চাকরি করা যুবকের সন্ধান পান এবং মেয়েটির জন্য সম্বন্ধ নিয়ে আসেন। ধুমধাম করে মেয়েটির বিয়ে হয়ে যায়। মেয়েটির শ্বশুরবাড়ির ফ্যামিলি বেশ বড়। বাড়ির বড় বৌ হিসাবে সেই ফ্যামিলিতে আগমণ। সেই ফ্যামিলিতে আছে শ্বশুর শাশুড়ী তিন ননদ এবং দুই দেওর। স্বাভাবিকভাবেই এই ফ্যামিলিতে এসে মেয়েটি দিশেহারা। সংসারের হেন কাজ নেই মেয়েটিকে করতে হতো না। সে সাংসারিক কাজে অপটু ছিল। সেটা হওয়াটাই স্বাভাবিক। সেই পরিবারে সকলের গঞ্জনা তাকে শুনতো হতো। শাশুড়ী থেকে ননদরা তাকে প্রায়ই কথা শোনাত 'বাবা মা কি কিছুই শেখায়নি'। এছাড়াও শাশুড়ীর বিভিন্ন অশ্লীল কটুকথা তাকে শুনতে হতো। এই ভাবে কেটে গেলো এক বছর। মেয়েটি সন্তান সম্ভাবা হয়ে পড়লো। দু বছর শেষ হওয়ার আগেই মেয়েটির কোল আলো করে এলো একটি ছেলে। ছোট্ট ছেলেটি আস্তে আস্তে এই সংসারে বড় হতে থাকলো। আর দেখতে থাকলো মায়ের প্রতি নানা গঞ্জনা ও অত্যাচার। ছোট্ট ছেলেটি যখন চার বছর বয়স তাকে নিয়ে তার মা বই নিয়ে প্রতিদিন সন্ধ্যায় বসতো। আস্তে আস্তে পরম মমতায় অক্ষরজ্ঞান দিতে থাকলো। ছোট্ট ছেলেটি সেই অক্ষরজ্ঞানের সাথে প্রথম জ্ঞানের আলো হিসাবে নিজেকে বিকশিত করতে লাগলো। কিন্তু সংসারের কাজকর্মে ব্যাঘাত হয়। শাশুড়ী মেয়েটিকে নানা অকথা-কুকথা শোনাতে থাকে। মেয়েটির সহ্যশক্তির সীমা অতিক্রম করলো একদিন। তার নিজের ছেলের পড়াশোনাতে এত আপত্তির কারণে শাশুড়ীকে সেও দু'চার কথা শুনিয়ে দিলো। ভয়ংকরী তেজী শ্বাশুড়ী তার বৌমার আচরণ সহ্য করতে পারলো না। মেয়েটি তখন তার ছেলেটিকে বর্ণ পরিচয় বই পড়াচ্ছিলো। শাশুড়ী সেই সময় একটা রুটি করার বেলনা নিয়ে মেয়েটির মাথায় সজোরে আঘাত করলো। ফিনকি দিয়ে রক্ত ঝরলো এবং সাথে সাথে বর্ণ পরিচয় বইটা রক্তে রাঙা হয়ে গেলো। ছোট্ট ছেলেটি সেই দৃশ্য দেখে বুঝতে পারলো না কি হল তার মায়ের সাথে। মায়ের আর্তনাদে সে ভয় পেয়ে গেলো। সে কান্না কাটি কর‍তে লাগলো। সেই বেলনাটা নিয়ে সেও তার ঠাম্মাকে মারতে উদ্যত হলো।।।।।।।
এই পর্যন্ত গল্পটি থাক। এখানে সেই ছোট্ট ছেলেটি হলো এই অধম। আমার প্রথম অক্ষর বা বর্ণ পরিচয়ের জন্য আমার মা এর বলিদান আজও মনে রেখেছি। আমি মনে করি আজ যা কিছু আমার শিক্ষা সবই সম্ভব হয়েছে মা'র জন্য। সেই প্রতিকুল পরিবেশে আমার মা আমাকে যত্ন সহকারে সেই বর্ণ পরিচয় না দিলে আজ 'আমি' হয়ে উঠতে কখনোই পারতাম না। আজ আমি স্টুডেন্টদের কমপিউটার শেখাই। টিউশন করি। একটু আধটু সাহিত্য চর্চা করি সবই আমার মা এর দান। আমি তা ভুলবো কি করে।।।
আজ এই শিক্ষক দিবসের দিনে আমি আমার মাকে প্রণাম জানাই। আমি যতটুকু জীবনে অর্জন করতে পেরেছি তাঁর অবদান অনস্বীকার্য্য।
----------------------------
এই লেখাটি ২০১৮ বর্ষে শিক্ষক দিবস উপলক্ষ্যে লেখা। তারিখ - ০৬.০৯.২০১৮
অনেকদিন ধরে বুকের মধ্যে জমে থাকা কথা গুলো আজ আমি লিখেই ফেলললাম মা। তোমাকে আমার শ্রদ্ধাঞ্জলী।

Wednesday, August 15, 2018

নিবন্ধ - ভারতবর্ষের স্বাধীনতা আন্দোলনে বিপ্লবী মদনলাল ধিংড়া

রাজকুমার ঘোষ -
ভারতের স্বাধীনতা অন্দোলনে স্বর্ণাক্ষরে লেখা আছে কত স্বাধীনতা সংগ্রামীর নাম,  যারা ভারত ভূখন্ড থেকে ইংরেজদের উচ্ছেদ করার ব্রত নিয়ে নিজেদের প্রাণ বিসর্জন দিয়েছিলেন সুভাষচন্দ্র বসু থেকে শুরু করে মাস্টারদা সূর্য সেন, ক্ষুদিরাম বসু থেকে শুরু করে বিনয়-বাদল-দীনেশের বৈপ্লবিক কার্যকলাপ আজও ভারতবাসী তথা বাঙালী মননে গেঁথে আছে তারই মাঝে অনেকেই আছেন যাদের বৈপ্লবিক কার্যকলাপ ভীষণভাবে প্রভাব বিস্তার করেছিল ভারতবর্ষের স্বাধীনতা আন্দোলনে, কিন্তু তাদের নাম অনেকেই হয়তো জানেন না বা স্মরণ করেন না বিপ্লবী রাসবিহারী বসু তাঁদের মধ্যেই একজন যার মহান কার্যকলাপ সম্বন্ধে অনেকেই জানেন না তেমন ভাবে আর একজনের নাম মদনলাল ধিংড়া, যিনি ছিলেন ভারতীয় উপমহাদেশের ব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনের একজন অন্যতম বিশেষ ব্যক্তিত্ব এবং অগ্নিযুগের বিপ্লবী
মদনলাল ধিংড়া ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের এক অসামান্য বিপ্লবী ছিলেন তিনি ইংল্যান্ডে অধ্যয়নরত ছিলেন যেখানে তিনি ব্রিটিশ কর্মকর্তা  স্যার উইলিয়াম হার্ট কার্জন উইলিকে গুলি করে হত্যা করেন বিংশ শতাব্দীতে এই ঘটনাটি ভারতীয় স্বাধীনতা আন্দোলনের প্রথম ঘটনাগুলির মধ্যে একটি  

 ১৮৮৩ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর পাঞ্জাবের অমৃতসরে একটি সমৃদ্ধ হিন্দু পরিবারে মদনলাল ধিংড়া জন্মগ্রহণ করেছিলেনএক সিভিল সার্জন পিতার সাত সন্তানের ষষ্ঠ সন্তান ছিলেন মদনলাল ধিংড়া তিনি তাঁদের পরিবারের  ইংরেজি শিক্ষা ও সংস্কৃতিতে মানুষ হয়েছিলেন, কিন্তু তাঁর মাতা একজন ধর্মীয় ও ভারতীয় সংস্কৃতির ভক্ত ছিলেন, যার প্রভাব তাঁর মধ্যে পড়েছিলো তিনি ছাড়া তাঁর বাকি ভাইদের শিক্ষা ইংল্যান্ডে হয়েছিলো মদনলাল ধিংড়া অমৃতসরের এম.বি ইন্টারমিডিয়েট কলেজে ১৯০০ সাল পর্যন্ত পড়াশোনা করেছিলেন এরপর তিনি পড়াশোনার জন্য লাহোরের সরকারি কলেজের বিশ্ববিদ্যালয়ে যান বিশ্ববিদ্যালয়ে সেই সময় ছাত্ররা যে ব্লেজার পড়তো তা ইংল্যান্ড থেকে আমদানী হত ১৯০৪ সালে ইংল্যান্ড থেকে ব্লেজারের কাপড় আমদানী করার প্রতিবাদে প্রিন্সিপালের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী আন্দোলন হয়, যে আন্দোলনের নেতৃত্বে ছিলেন মদনলাল ধিংড়া তাঁকে কলেজ থেকে বহিষ্কার করা হয় সেই সময়ে ধিংড়া মাস্টার অফ আর্টসের ছাত্র ছিলেন তিনি জাতীয়তাবাদী স্বদেশী আন্দোলনে প্রভাবিত হয়েছিলেন তিনি ভারতের দারিদ্র্য ও দুর্ভিক্ষের ব্যাপক কারণগুলি নিয়ে পড়াশোনা করেন এবং অনুভব করেন যে এই সমস্যাগুলির সমাধানের জন্য দরকার স্বদেশী আন্দোলন ধিংড়া এরপর ক্লার্ক হিসেবে কাজ করেছেন, তারপর সিমলাতে ব্রিটিশ পরিবারগুলির মাল পরিবহনের জন্য কলকার একটি টাঙ্গা পরিষেবায় কাজ করেছেন  তারপর একটি কারখানার শ্রমিক হিসেবেও কাজ করেছিলেন এখানে তিনি একটি ইউনিয়ন সংগঠিত করার চেষ্টা করেছিলেন কিন্তু তাঁকে বরখাস্ত করা হয়েছিল এরপর তিনি মুম্বাইয়ে কিছু সময়ের জন্য কাজ করেছিলেন  তারপর তিনি তাঁর বড় ভাই ডাঃ বিহারী লালের পরামর্শে উচ্চশিক্ষা চালিয়ে যাওয়ার জন্য ইংল্যান্ড যান ১৯০৬ সালে লন্ডনের ইউনিভার্সিটি কলেজে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে তিনি পড়াশোনা করেন পড়াশোনার জন্য প্রথমদিকে তাঁর বড় ভাই এবং পরে ইংল্যান্ডে কিছু জাতীয়তাবাদী কর্মী তাঁকে আর্থিকভাবে সাহায্য করেছিলেন
লন্ডনে মদনলাল ধিংড়ার সাথে পরিচয় হয় সেই সময়ের প্রখ্যাত বিল্পবী নেতা বিনায়ক দামোদর সাভারকর এবং শ্যামজী কৃষ্ণ বর্মার সাথে এই দুই বিপ্লবী ধিংড়ার প্রচন্ড দেশভক্তিতে মুগ্ধ হয়েছিলেন জানা যায়, বিনায়ক দামোদর সাভারকরই মদনলাল ধিংড়াকে 'অভিনব ভারত' নামে একটি বৈপ্লবিক সংগঠনের সদস্য করান এবং বন্দুক চালানোর প্রশিক্ষণ দেন মদনলাল ধিংড়া লন্ডনের 'ইন্ডিয়া হাউস'-এ বেশি থাকতেন  সেইসময় এই হাউস ভারতীয় বিদ্যার্থীদের রাজনৈতিক ক্রিয়াকলাপের মূল কেন্দ্র ছিল এই সকল বিপ্লবী বিদ্যার্থীরা সেইসময় ভারতে ক্ষুদিরাম বোস, কানাইলাল দত্ত, সতিন্দর পাল এবং কাশীরামের মত বিপ্লবীদের মৃত্যুদন্ড দেওয়ার জন্য ভীষণ রকম ভাবে ইংরেজ সরকারের ওপর ক্ষুদ্ধ ছিলেন কিছু ইতিহাসবিদ এটাই মনে করেন এই সকল মৃত্যুদন্ডের ঘটনাগুলো সাভারকার এবং ধিংড়াকে সরাসরি ব্রিটিশ সরকারের বিরুদ্ধে বদলা নেওয়ার জন্য ইন্ধন জুগিয়েছিলো তাঁরা সশস্ত্র আন্দোলনের পথ বেছে নিয়েছিলেন 
১৯০৯ সালের ১লা জুলাই সন্ধ্যায় লন্ডনের একটি হলেইন্ডিয়ান ন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন’-এর একটি বার্ষিক সভার আয়োজন করা হয়েছিল যে সভায় অংশগ্রহণ করতে বেশ কিছু ভারতীয়র সাথে ইংরেজরাও একত্রিত হয়েছিলো ঐ সভায় মদনলাল ধিংড়াও উপস্থিত হয়েছিলেন ঐ সভায় যোগদান করতে আসার কথা ভারত সচিবের পরামর্শদাতা রূপে ব্রিটিশ কর্মকর্তা স্যার উইলিয়াম হার্ট কার্জন উইলির সভা শেষ হওয়ার পর যখন অতিথিরা যে যার মত হল ছেড়ে বেরিয়ে যাচ্ছেন ঠিক সেইসময় ধিংড়া উইলিয়াম হার্ট কার্জন উইলিকে নিশানা করে পাঁচটি গুলি করেন যার মধ্যে চারটি গুলি সঠিক নিশানায় লাগে এছাড়াও তাঁর গুলিতে মারা যান ডাঃ লালকাকা, যিনি একজন পার্সিয়ান ডাক্তার এরপর ধিংড়া নিজের জন্য বরাদ্দ রাখা একটি গুলি নিজের ওপর প্রয়োগ করতে যাবেন কি তিনি ব্রিটিশ পুলিশের হাতে ধরা পড়ে যান   
২৩শে জুলাই ১৯০৯ সালে ধিংড়ার শুনানি হয় লন্ডনের পুরোনো বেলি কোর্টে আদালত তাঁকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেয় তারপর ১৭ই আগষ্ট ১৯০৯ সালে লন্ডনের পেন্টবিলে জেলে তাঁকে ফাঁসী দেওয়া হয় তাঁর এই মৃত্যু ব্যর্থ হয়নি মদনলাল ধিংড়া স্বদেশী আন্দোলনের জন্য নিজের জীবন বিসর্জন দিয়েছিলেন তাঁর এই আত্মবলিদান ভারতবর্ষের বৈপ্লবিক আন্দোলনে যথেষ্ট প্রভাব বিস্তার করেছিলো মৃত্যুবরণ করেও মদনলাল ধিংড়া অমর হয়ে রয়েছেন ভারতবর্ষের শহীদ বিল্পবীদের তালিকায় তাঁর নাম আজও উজ্জ্বল হয়ে আছে হয়তো অনেকেই জানেন না তাঁর এই বলিদান, কিন্তু এখনো বিপ্লবী মদনলাল ধিংড়ার স্মারক রয়েছে রাজস্থানের আজমের রেলওয়ে স্টেশনের ঠিক সামনে
আসুন, সবাই মিলে ১৫ই আগষ্টের দিন ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে শহীদ হওয়া বিপ্লবীদের সাথে বিপ্লবী মদনলাল ধিংড়াকেও জানাই আমাদের শ্রদ্ধাঞ্জলী 
তথ্যসূত্রঃ গুগল এবং উইকিপিডিয়া (হিন্দী এবং ইংরাজী)

প্রকাশিত - আমাদের লেখা 'স্বাধীনতা' ব্লগ, ২০১৮ 

Friday, August 10, 2018

পত্র সাহিত্য - মা-কে লেখা চিঠি



রাজকুমার ঘোষ -

মাগো,
আজ আমার বড়ই কান্না পাচ্ছে । স্কুল থেকে ফিরে তোমাকে খুব দেখতে ইচ্ছে করছে । স্কুলে আজ এক ছাত্র তার সহপাঠির ব্যাগ থেকে দামি পেন চুরি করেছে, ধরা পড়েও সে অস্বীকার করেছে। তার জন্য আমি ওকে খুব মেরেছি । ওর বাবা-মাকেও নালিশ করছি। না-জানি ওর ভাগ্যে আর কত মার আছে ! মা, আমার মনটা ভীষণ খারাপ।
মা...তোমার মনে আছে, স্কুলে আমার বন্ধু প্রকাশ আমার ব্যাগ থেকে একটি পেন চুরি করেছিল, ওকে আমি ধরে খুব মেরেছিলাম, কিন্তু এর জন্যে তুমি আমাকে খুব বকা-ঝকা করেছিলে এবং মেরেওছিলে। আমি কেঁদেছিলাম, পরে তুমি এসে আদর করে বলেছিলে, ‘কারোর গায়ে হাত দেওয়ার অধিকার ভগবান তোমাকে দেয়নি... যে অপরাধী সে ঠিক তার শাস্তি পাবেই’। কিন্তু আজ আমি কি করলাম... তুমি এসো মা, আমার কানটি মুলে দিয়ে যাও, আর আমার অপরাধী মনটাকে একটু শাস্তি ও শান্তি দিয়ে যাও...... ।
মা তোমাকে বলা হয়নি, আজ আমার বার বার ফিরে যেতে ইচ্ছে করছে তোমার শাসনের ঘেরাটোপে । স্কুলে শিক্ষকতা করতে করতে মনে হচ্ছে কি যেন বাকি থেকে গেছে । কি যেন পাচ্ছি না আমি । তুমি আমাকে আর একটু বকে দাও, আমি কাঁদবো, তুমি তোমার আঁচলের মধ্যে আমাকে টেনে নিয়ে চোখের জল মুছিয়ে দেবে, আদর করবে । জীবনের এইবেলায় এসে কেন এমন মনে হচ্ছে মা ? তুমি কি বলতে পারবে ......

প্রকাশিত - কবিতা ক্লাব